ভূমিকা 

বর্তমান আধুনিক ও ব্যস্ত সময়ে শিশুদের সঠিক লালন-পালন বা ‘তরবিয়ত’ বাবা-মা এবং শিক্ষকদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমরা ইসলামে শিশু পালনের নিয়ম কি তা  জানি না ।অনেকেই মনে করি, কঠোর শাসন বা প্রহারই শিশুকে সুপথে রাখার একমাত্র উপায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শাসনের নামে এই শারীরিক নির্যাতন কি আসলেই শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়ক? নাকি এটি তাকে আরও জেদি ও বিদ্রোহী করে তোলে?

পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শিশুদের শাসন করার ক্ষেত্রে রয়েছে এক অনন্য ও ভারসাম্যপূর্ণ মূলনীতি। ইসলাম কখনোই শিশুকে অকারণে আঘাত করতে উৎসাহিত করেনি; বরং স্নেহের পরশ এবং মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের মাধ্যমে তাদের সংশোধনের পথ দেখিয়েছে। বিশেষ করে দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা মক্তব-মাদরাসায় যারা অতি অল্প বয়সে বাবা-মাকে ছেড়ে ইলম অর্জনে রত হয়, তাদের প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত—তা নিয়ে রয়েছে গভীর শিক্ষণীয় দিক।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব, শিশুদের শাসনে ইসলামি শরিয়তের প্রকৃত বিধান কী এবং কীভাবে একজন শিক্ষক বা অভিভাবক শারীরিক প্রহার এড়িয়ে কেবল ধৈর্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে একটি শিশুকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। চলুন, ইসলামের সোনালী আদর্শের আলোকে শিশুদের শাসনের সঠিক পদ্ধতিগুলো জেনে নিই।

 

শিশু-কিশোরদের মনস্তাত্ত্বিক শাসন ও স্নেহের পরশ

শিশুর শাসনে মারধর নয়, স্নেহের শাসনই কাম্য বিকাশমান কোমলমতি শিশুদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শাসনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে সেই শাসন হতে হবে গঠনমূলক। ছোট বাচ্চাদের সংশোধনের জন্য কেবল মৌখিক শাসন, সামান্য তিরস্কার বা সতর্কবাণীই যথেষ্ট। প্রহার বা শারীরিক নির্যাতন কখনোই প্রকৃত শিক্ষা হতে পারে না। মক্তব, মাদরাসা বা বিদ্যালয়ের পাঠশালায় কোনো শিশু দুরন্তপনা করলে শারীরিক আঘাতের পরিবর্তে তাকে সবার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা যেতে পারে। এটি একটি বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক শাসন। মনে রাখতে হবে, শিশুদের বয়স যত কম হয়, তাদের আত্মমর্যাদাবোধ এবং অভিমান তত বেশি থাকে। তাই উস্তাদ বা শিক্ষকের শাসনের জন্য চোখের শাসন, স্নেহমাখা ধমক কিংবা সাময়িক দাঁড় করিয়ে রাখাই সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত।

ক্রোধের বশবর্তী হয়ে শাসন: একটি ধ্বংসাত্মক পথ

রাগের সময় মানুষের হিতাহিত জ্ঞান লুপ্ত হয়। তাই প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার দাবি হলো—ক্রোধের চরম মুহূর্তে কোনো ছাত্রকে শাস্তি না দেওয়া। শুধু ছাত্র নয়, বরং পরিবারের সদস্য বা অধীনস্থ কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। ইতিহাস ও সমকাল সাক্ষ্য দেয় যে, রাগের মাথায় শাসন করতে গিয়ে বহু ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি, এমনকি জীবনাবসানের মতো ঘটনাও ঘটেছে। আরবিতে একটি প্রবাদ রয়েছে— “ক্রোধের শুরু উন্মাদনায় আর শেষ হয় অনুশোচনায়।”

বিজ্ঞজনেরা বলেন, রাগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সীমা অতিক্রম করার পর অনুশোচনা করে কোনো লাভ নেই। বিশেষ করে যেসব শিক্ষকের বয়স চল্লিশের নিচে, তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ক্রোধের প্রথম ঝলকেই নিজেকে সামলে নেওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা থাকা চাই। অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে শান্ত মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে কোনোভাবেই শারীরিক আঘাতের প্রয়োজন না পড়ে।

ভিত্তি হোক আদব ও তরবিয়ত ঘরের ভেতরেও শিশুদের ওপর হাত তোলা অনুচিত। শিশুদের শাসনের চেয়ে ‘তরবিয়ত’ বা সঠিক লালন-পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া বেশি জরুরি। শৈশব থেকেই যদি আদব-আখলাক ও শিষ্টাচারের প্রতি যত্ন নেওয়া হয়, তবে পরবর্তীতে মারধরের প্রয়োজনই পড়ে না। অনেক সময় অভিভাবকগণ শুরুতে অবহেলা করেন, কিন্তু শিশু যখন অবাধ্য হয়ে ওঠে, তখন মারধর শুরু করেন। এটি হিতে বিপরীত ফল বয়ে আনে। আশার কথা হলো, ঢাকা শহরসহ দেশের বহু আদর্শ মাদরাসায় এখন শারীরিক শাস্তিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

দ্বীনি ইলম অন্বেষণে শিশুদের আত্মত্যাগ

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, দ্বীনি ইলম বা ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের জন্য এই ছোট ছোট শিশুরাই পরিবার, বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের মায়া ত্যাগ করে দূর-দূরান্তের ছাত্রাবাসে অবস্থান করে। ঘরে বসে উচ্চতর দ্বীনি জ্ঞান অর্জন প্রায় অসম্ভব বলেই তাদের এই কঠিন ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। কচি বয়সে আপনজনদের ছেড়ে একা থাকাটা একটি শিশুর জন্য অনেক বড় মানসিক লড়াই। মাদরাসার পরিবেশ যত উন্নতই হোক, তা কখনোই মায়ের আঁচল বা বাবার স্নেহের ছায়ার বিকল্প হতে পারে না।

বিপরীতে, জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত শিশুরা সাধারণত পরিবারের কাছে থেকেই পড়াশোনা করার সুযোগ পায় এবং তাদের পাঠদানের সময়ও তুলনামূলক কম। তারা যেখানে আদর-যত্ন আর আনন্দের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে, সেখানে মক্তব-মাদরাসার এই প্রবাসী শিশুদের ওপর শারীরিক আঘাত কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? যারা শৈশবেই মা-বাবার ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে জ্ঞানের পথে নেমেছে, তাদের প্রাপ্য তো ছিল কেবল অফুরন্ত স্নেহ আর মমতা। তাই ঢালাওভাবে বেত্রাঘাত বা মারধরের সংস্কৃতি পরিহার করে ভালোবাসার পরশে তাদের গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।

 

শাসনের ইসলামি নীতিমালা ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি

সংশোধনের সোপান: হিকমত ও পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি

শিক্ষার্থীদের কোনো ভুল বা অপরাধে তৎক্ষণাৎ কঠোর হওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং শাসনের একটি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমত, তাকে পরম মমতায় বুঝিয়ে বলতে হবে; দ্বিতীয়ত, মৃদু ভর্ৎসনা বা সতর্ক করা যেতে পারে। এরপরও যদি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসে, তবে সংশোধনের স্বার্থে সামান্য শাসনের ভয় দেখানো যায়। তবে ফিকহবিদগণের মতে, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরেও যদি সংশোধন না হয়, তবেই কেবল মৃদু প্রহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে—যা কোনোভাবেই যখম বা জখম সৃষ্টি করবে না এবং মুখমণ্ডলে আঘাত করা তো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মনে রাখতে হবে, শাস্তির একমাত্র লক্ষ্য হতে হবে ‘সংশোধন’, কখনোই ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা জিঘাংসার বহিঃপ্রকাশ নয়।

এ প্রসঙ্গে আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে:

“يجب أن يكون القصد من التأديب هو الإصلاح لا التشفّي”

(অর্থ: শাসনের উদ্দেশ্য অবশ্যই সংশোধন হওয়া উচিত, নিজের ক্ষোভ মেটানো নয়।) — খণ্ড: ৪৫, পৃষ্ঠা: ১৭০

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও শাসনের সীমাবদ্ধতা

শিক্ষার্থীদের শাসন করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি নির্দিষ্ট সীমা রেখা টেনে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন:

“لَا يُجْلَدُ فَوْقَ عَشَرَةِ أَسْوَاطٍ إِلَّا فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ”

(অর্থ: আল্লাহর নির্ধারিত ‘হদ’ বা দণ্ডবিধি ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে দশটির বেশি বেত্রাঘাত করা যাবে না।) — সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৬৪৫৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৭০৮

মানসিক শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেছেন:

“عَلِّقُوا السَّوْطَ حَيْثُ يَرَاهُ أَهْلُ الْبَيْتِ ، فَإِنَّهُ لَهُمْ أَدَبٌ”

(অর্থ: তোমরা চাবুক বা বেত এমন স্থানে ঝুলিয়ে রাখো যেন গৃহবাসী বা পরিবারের সদস্যরা দেখতে পায়। কেননা এটি তাদের জন্য শিষ্টাচার শেখার একটি মাধ্যম।) — সিলসিলাতুস সহিহাহ, হাদিস নং: ১৪৪৭; সহিহুল জামে‘, হাদিস নং: ৪০২১

 

হানাফি মাযহাবের আলোকে শিশু শাসনের আইনি ও ফিকহি নীতিমালা

হানাফি ফিকহবিদগণ শিশুদের শাসনের ক্ষেত্রে ‘ইসলাহ’ বা সংশোধনকে মূলভিত্তি হিসেবে গণ্য করেছেন। প্রখ্যাত ফকিহগণের মতে, শাসনের নামে শিশুকে যখম করা বা সীমালঙ্ঘন করা সম্পূর্ণ হারাম এবং এর জন্য উস্তাদ বা অভিভাবককে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে।

১. প্রহারের সর্বোচ্চ সীমা ও স্থান বর্জন

হানাফি মাযহাবের প্রধান ফতোয়ার কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার’ (ফাতাওয়া শামী)-এ উল্লেখ করা হয়েছে:

“ويضرب الثوب لا الجلد، ولا يجاوز الثلاث، وقيل العشر، ولا يضرب الوجه ولا المذاكير”

অর্থ: “শাসন করার সময় পশুর মতো চামড়ায় আঘাত করা যাবে না, বরং কাপড়ের ওপর দিয়ে (মৃদু) আঘাত করা যেতে পারে। প্রহারের সংখ্যা তিনটির বেশি হবে না (কারো মতে দশটি)। আর কোনোভাবেই মুখমন্ডল ও সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত করা যাবে না।” — (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৭৯, কিতাবুল জিনায়াত)

২. শিক্ষকের দায়বদ্ধতা ও সীমালঙ্ঘন

হানাফি ফিকহের অন্যতম কিতাব ‘আল-বাহরুর রায়েক’-এ উস্তাদদের সতর্ক করে বলা হয়েছে:

“وإنما يباح له الضرب إذا كان الضرب غير مبرح وهو الذي لا يكسر عظما ولا يشين عضوا”

অর্থ: “শিক্ষকের জন্য প্রহার কেবল তখনই বৈধ যখন তা ‘গয়রে মুবাররিহ’ বা মৃদু হবে। অর্থাৎ এমন আঘাত যা হাড় ভাঙবে না এবং শরীরের চামড়ায় কোনো জখম বা কালো দাগ সৃষ্টি করবে না।” — (আল-বাহরুর রায়েক, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৩১৩)

৩. নাবালেগ শিশুর ক্ষেত্রে মূলনীতি

হানাফি ফিকহবিদগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যদি উস্তাদ বা বাবা-মা রাগের বশবর্তী হয়ে বা শাসনের সীমা অতিক্রম করে শিশুকে আঘাত করেন এবং তাতে শিশুর কোনো ক্ষতি হয়, তবে ইসলামি আইনে সেই উস্তাদ বা অভিভাবক অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। ‘ফাতাওয়া তাতারখানিয়া’-তে বলা হয়েছে যে, শাসনের উদ্দেশ্য হতে হবে কেবল শিক্ষা দান, প্রতিশোধ গ্রহণ নয়।

উপসংহার: ভালোবাসা ও আদর্শিক শাসনের মেলবন্ধন

পরিশেষে বলা যায়, শিশুদের শাসন কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি শিল্প। ইসলামি শরিয়তের প্রতিটি বিধান ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ বিশ্লেষণ করলে এটিই স্পষ্ট হয় যে, প্রহার বা শারীরিক নির্যাতন কখনোই প্রকৃত শিক্ষার মূলমন্ত্র হতে পারে না। বিশেষ করে মক্তব-মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, যারা আপনজনদের মায়া ত্যাগ করে দ্বীনি ইলম অন্বেষণে রত, তাদের প্রতি আমাদের আচরণ হওয়া উচিত সর্বোচ্চ মমতা ও সহমর্মিতাপূর্ণ।

শৈশবের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা একজন মানুষের ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখে। প্রহার বা কঠোর শাসন শিশুকে ভেতর থেকে বিমর্ষ, জেদি এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তোলে। বিপরীতে, ভালোবাসার শাসন ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশলে যে শিষ্টাচার শেখানো হয়, তা শিশুর হৃদয়ে গেঁথে যায় চিরকাল।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিশুরা বেতের ভয়ে নয়, বরং উস্তাদ বা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার টানে জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট হবে। মনে রাখতে হবে, বেত্রাঘাত সাময়িক নিস্তব্ধতা আনতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের পরিবর্তন আনতে পারে কেবল স্নেহ আর সঠিক ‘তরবিয়ত’। আল্লাহর দেওয়া এই আমানত তথা শিশুদেরকে আমরা যেন সুন্নাহর আলোয় এবং মমতার পরশে আগামীর আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি—এটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

আর্টিকেলের মূল শিক্ষণীয় দিক (এক নজরে)

পাঠকদের দ্রুত বোঝার সুবিধার্থে আর্টিকেলের মূল পয়েন্টগুলো নিচে দেওয়া হলো:

মৌখিক শাসনই যথেষ্ট: ছোট বাচ্চাদের জন্য চোখের ইশারা বা মৃদু ধমকই সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত।

রাগের সময় নীরবতা: ক্রোধের মুহূর্তে কোনো অবস্থাতেই শিশুকে শাসন করা যাবে না, কারণ রাগের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত সবসময় ভুল হয়।

শারীরিক আঘাতের সীমাবদ্ধতা: ১০ বছরের কম বয়সী শিশুকে প্রহার করা শরিয়তসম্মত নয়। ১০ বছরের বেশি হলে কেবল চূড়ান্ত পর্যায়ে ‘মৃদু’ শাসনের অনুমতি আছে, তবে মুখে মারা বা যখম করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

মনস্তাত্ত্বিক কৌশল: মারধরের পরিবর্তে দাঁড় করিয়ে রাখা বা সাময়িক সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করার মতো মানসিক শাসন অনেক বেশি কার্যকর।

মাদরাসা ছাত্রদের প্রতি বিশেষ নজর: যারা পরিবার ছেড়ে দূরে থাকে, তাদের প্রতি সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি স্নেহশীল হওয়া উস্তাদদের নৈতিক দায়িত্ব।

আরো পড়ুন

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন : ইসলাম, ইতিহাস ও বিজ্ঞানের আলোকে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল এ যুক্ত হতে এখানে ক্লিক করুন

১. প্রশ্ন: ইসলাম কি শিশুদের মারধর করার অনুমতি দেয়?

উত্তর: ইসলাম মূলত শিশুদের স্নেহ ও উপদেশের মাধ্যমে সংশোধনের ওপর জোর দেয়। তবে ১০ বছর বয়স হওয়ার পর যদি শিশু নামাজ বা মৌলিক ইবাদতে চরম অবহেলা করে, তবে তাকে সংশোধনের স্বার্থে ‘মৃদু’ শাসনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি কোনোভাবেই রাগের বহিঃপ্রকাশ বা শারীরিক নির্যাতন হতে পারবে না।

২. প্রশ্ন: শাসনের ক্ষেত্রে কোন বয়সে প্রহার করা একদম নিষেধ?

উত্তর: ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো অবস্থাতেই প্রহার বা শারীরিক আঘাত করা যাবে না। এই বয়সে তাদের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, স্নেহ এবং মৌখিক উপদেশের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে।

৩. প্রশ্ন: হানাফি মাযহাব অনুযায়ী শাসনের সর্বোচ্চ সীমা কী?

উত্তর: হানাফি ফিকহবিদদের মতে, প্রহার হতে হবে অত্যন্ত মৃদু (যাতে চামড়ায় দাগ না পড়ে বা হাড় না ভাঙে)। প্রহারের সংখ্যা ৩ থেকে ১০টির বেশি হওয়া যাবে না এবং মুখমণ্ডল বা শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (হারাম)।

৪. প্রশ্ন: রাগের মাথায় ছাত্র বা সন্তানকে শাসন করা কি জায়েজ?

উত্তর: না। রাগের মাথায় শাসন করা ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত। কারণ এতে ‘সংশোধন’ নয়, বরং নিজের ‘ক্ষোভ’ মেটানোর সম্ভাবনা থাকে। প্রখ্যাত ফকিহগণ রাগের সময় শাসন করতে নিষেধ করেছেন, কারণ এতে হিতাহিত জ্ঞান থাকে না এবং সীমালঙ্ঘনের ভয় থাকে।

৫. প্রশ্ন: মারধর না করে শিশুকে সংশোধনের বিকল্প উপায় কী?

উত্তর: মারধরের পরিবর্তে মনস্তাত্ত্বিক শাসন অনেক বেশি কার্যকর। যেমন: কিছুক্ষণ কথা না বলা, সবার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা, তার পছন্দের কোনো কাজ বা খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া, অথবা চোখের ইশারায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here