ভূমিকা: হৃদয়ের মিনার ও বায়তুল্লাহর টান

পবিত্র বায়তুল্লাহ বা কাবা শরীফ—প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ের গহীনে যার ছবি আঁকা। দৈনিক পাঁচবার আমরা যে পবিত্র ঘরের দিকে মুখ ফিরিয়ে সিজদাবনত হই, তার প্রতি মুমিনের এই টান চিরন্তন ও অপার্থিব। দেখতে সাধারণ ও অনাড়ম্বর এক চতুষ্কোণ ঘর হলেও, এর গাম্ভীর্য ও আকর্ষণ যেন পৃথিবীর সমস্ত চাকচিক্যকে হার মানায়। কী সেই মায়া, কী সেই ব্যাকুলতা যা বারবার মুসলিম উম্মাহকে কাবার পানে লাব্বাইক বলে ছুটে যেতে বাধ্য করে? এটিই পবিত্র কাবাগৃহের অন্যতম মুজিজা। পৃথিবীর সমস্ত প্রশান্তি যেন এই এক বিন্দুতে এসেই থিতু হয়েছে।

সূচিপত্র

আরো পড়ুন 

ইবাদতে মন বসানোর উপায় ও আল্লাহর মহব্বত লাভের কার্যকর আমল

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত: জান্নাত লাভের এক পূর্ণাঙ্গ গাইড

পৃথিবীর সর্বপ্রথম ইবাদতগৃহ: পবিত্র কাবা

পৃথিবীতে মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদতের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে, তা হলো বায়তুল্লাহ বা কাবা শরিফ। এ বিষয়ে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:

اِنَّ اَوَّلَ بَیۡتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِیۡ بِبَکَّۃَ مُبٰرَکًا وَّ هُدًی لِّلۡعٰلَمِیۡنَ

“নিশ্চয়ই মানবজাতির (ইবাদতের) জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর তৈরি করা হয়েছে, তা হলো মক্কায় অবস্থিত সেই ঘরটি; যা অত্যন্ত বরকতময় এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েতের পথপ্রদর্শক।” (সূরা আল ইমরান: ৯৬)

এই আয়াতটি স্পষ্ট করে দেয় যে, কাবার অস্তিত্ব কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি পৃথিবীর আদি ও অকৃত্রিম হেদায়েতের কেন্দ্রবিন্দু।

আয়াতটির শানে নুযূল: সত্যের উন্মোচন

এই আয়াত নাজিলের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ইমাম বাগাবী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, তৎকালীন সময়ে ইহুদিরা মুসলমানদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে দাবি করত, বায়তুল মাকদিস তাদের কিবলা এবং এটি কাবা অপেক্ষা প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ। এমনকি তারা বলত, এটিই নবীদের হিজরতের স্থান। তাদের এই অমূলক তর্কের অবসান ঘটিয়ে এবং কাবার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাজিল করেন।

তাফসীরে বাগাবীতে এসেছে—

أَنَّ الْيَهُودَ قَالُوا لِلْمُسْلِمِينَ: بَيْتُ الْمَقْدِسِ قِبْلَتُنَا، وَهُوَ أَفْضَلُ مِنَ الْكَعْبَةِ وَأَقْدَمُ، وَهُوَ مُهَاجَرُ الْأَنْبِيَاءِ، وَقَالَ الْمُسْلِمُونَ: بَلِ الْكَعْبَةُ أَفْضَلُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ}

অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিলেন যে, ইবাদতের জন্য মক্কায় অবস্থিত এই ঘরটিই পৃথিবীর প্রাচীনতম এবং বরকতময় স্থান।

আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসির

إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ—অর্থাৎ, ‘মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা হলো মক্কায় অবস্থিত এই বায়তুল্লাহ’। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণের পক্ষ থেকে প্রধানত দুটি মত পাওয়া যায়:

প্রথম মত: পৃথিবীর আদি ও প্রথম গৃহ

এ মতানুসারে, পৃথিবীতে কাবা ঘরই সর্বপ্রথম নির্মিত স্থাপনা। এর পূর্বে ইবাদতখানা কিংবা মানুষের বসবাসের জন্য অন্য কোনো ঘর ছিল না। এমনকি আদি পিতা হযরত আদম (আ.) নিজের জন্য বাসগৃহ নির্মাণের আগেই মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য এই ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি.), মুজাহিদ (রাহি.) এবং কাতাদা (রাহি.) থেকে এই মতটি বর্ণিত হয়েছে। তবে আধুনিক গবেষণায় এবং ঐতিহাসিক মানদণ্ডে এই বর্ণনাগুলোকে কিছুটা ‘দুর্বল’ (যয়ীফ) হিসেবে গণ্য করা হয়। (তথ্যসূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসির, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৭)

দ্বিতীয় মত: ইবাদতের জন্য প্রথম ঘর (সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য)

এই মত অনুযায়ী, বসবাসের জন্য পৃথিবীতে এর আগে ঘর থাকতে পারে, কিন্তু মহান আল্লাহর ইবাদত ও বন্দেগির জন্য নির্দিষ্ট ‘প্রথম ঘর’ হিসেবে বায়তুল্লাহর মর্যাদা সবার উপরে। বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনে কাসির (রাহি.) এই মতটিকেই অধিক শক্তিশালী ও সঠিক হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছেন।

তাফসীরে ইবনে কাসিরে এই প্রসঙ্গে হযরত আলী (রাযি.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে:

عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاس لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا قَالَ: كَانَتِ الْبُيُوتُ قَبْلَهُ، وَلَكِنَّهُ كَانَ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِعِبَادَةِ اللَّهِ.

অর্থাৎ, হযরত আলী (রাযি.) বলেন, “বায়তুল্লাহর পূর্বে মানুষের বসবাসের জন্য অনেক ঘর পৃথিবীতে ছিল, তবে ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্মিত সর্বপ্রথম ঘর হলো বায়তুল্লাহ।”

অন্যদিকে সুদ্দী (রাহি.) মনে করতেন যে, এটিই পৃথিবীর সর্বপ্রথম স্থাপনা (বসবাস ও ইবাদত উভয় ক্ষেত্রে), কিন্তু আল্লামা ইবনে কাসির (রাহি.) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে—সুদ্দীর মতটি সঠিক নয়, বরং হযরত আলী (রাযি.)-এর বক্তব্যটিই বিশুদ্ধ ও সঠিক। (তথ্যসূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসির, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৭)

 

পবিত্র বায়তুল্লাহ নির্মাণের কালজয়ী ইতিহাস

বায়তুল্লাহ বা কাবা শরিফ—পৃথিবীর বুকে আল্লাহর এক অনন্য নিদর্শন। এর নির্মাণ নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নানাবিধ বর্ণনা ও বিশ্লেষণ রয়েছে। মূলত হযরত আদম (আ.)-এর সময় থেকেই এই পবিত্র গৃহের মর্যাদা ও অস্তিত্ব বিদ্যমান।

আদি নির্মাণের প্রামাণিক বিশ্লেষণ

অনেক ঐতিহাসিকের মতে, কাবা শরিফ সর্বপ্রথম হযরত আদম (আ.)-এর যুগেই নির্মিত হয়েছিল। যুগের পরিক্রমায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কালের আবর্তে সেই আদি কাঠামো একসময় বিলীন হয়ে যায়। এমনকি হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সময়কালে সেই পবিত্র ঘরের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল না। তখন মহান আল্লাহ তাঁকে ওহীর মাধ্যমে সেই প্রাচীন ও পবিত্র স্থানটি নির্দিষ্ট করে দেন এবং পুনরায় তা নির্মাণের নির্দেশ দেন।

পবিত্র কুরআনের ভাষ্য এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট:

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ

“স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম বায়তুল্লাহর ভিত্তিগুলো (প্রাচীন ভিটির ওপর) উঁচু করছিল।” (সূরা বাকারা: ১২৭)

বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘তাওযীহুল কুরআন’ (১/১১৯)-এ বলা হয়েছে যে, আয়াতে ‘নির্মাণ করেছিলেন’ (Built) না বলে ‘ভিত্তি উঁচু করেছিলেন’ (Raising the foundations) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বোঝা যায়—কাবার মূল ভিত্তি সেখানে আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল, ইব্রাহিম (আ.) কেবল সেই প্রাচীন কাঠামোর ওপর পুনরায় ঘরটি তুলেছিলেন।

ইব্রাহিম (আ.)-এর পূর্বেই কাবার অস্তিত্বের দলিল

হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নির্মাণের আগেই যে কাবা ঘরের অস্তিত্ব ছিল, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো তাঁর সেই আবেগঘন দোয়া। যখন তিনি স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও দুগ্ধপোষ্য সন্তান ইসমাইল (আ.)-কে নির্জন মক্কায় রেখে যাচ্ছিলেন, তখনও তিনি কাবার পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ শুরু করেননি। অথচ দোয়া করার সময় তিনি বলেছিলেন:

رَبَّنَاۤ اِنِّیۡۤ اَسۡکَنۡتُ مِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ بِوَادٍ غَیۡرِ ذِیۡ زَرۡعٍ عِنۡدَ بَیۡتِکَ الۡمُحَرَّمِ

“হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের একাংশকে আপনার সম্মানিত ঘরের (বায়তুল্লাহর) নিকট এক শস্যহীন উপত্যকায় বসতি স্থাপন করালাম।” (সূরা ইব্রাহিম: ৩৭)

এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ইব্রাহিম (আ.)-এর আগমনের পূর্বেই কাবার স্থানটি মানুষের কাছে ‘আল্লাহর ঘর’ হিসেবে পরিচিত ও নির্ধারিত ছিল। (মক্কাতুল মুকাররামা ওয়া তারিখ মাসজিদুন নববী, পৃষ্ঠা ৩৯)

বাইতুল্লাহ নির্মাণ নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ ও ইমাম ইবনে কাসিরের বিশ্লেষণ

সর্বপ্রথম কে এই ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেছেন, তা নিয়ে মুহাক্কিক ও মুফাসসিরগণের মধ্যে বিভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসির (রাহি.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত তাফসির গ্রন্থে এই মতভেদগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন:

ফেরেশতাগণের নির্মাণ: ইমাম কুরতুবী (রাহি.) উল্লেখ করেছেন যে, আদম (আ.)-এর সৃষ্টির আগেই ফেরেশতাগণ এটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে আল্লামা ইবনে কাসির এই বর্ণনাটিকে কিছুটা ‘গারিব’ বা বিরল বলে অভিহিত করেছেন।

হযরত আদম (আ.): অনেক বর্ণনায় এসেছে, আদম (আ.)-ই এর প্রথম নির্মাতা। ইমাম আব্দুর রাযযাক (রাহি.) সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব (রাহি.)-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

হযরত শীষ (আ.): হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) ও কাতাদা (রাহি.)-এর বর্ণনা মতে, সর্বপ্রথম হযরত শীষ (আ.) এটি নির্মাণ করেছিলেন।

তবে আল্লামা ইবনে কাসির (রাহি.) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উল্লেখ করেছেন যে, এগুলোর অধিকাংশ তথ্যই ‘ইসরাঈলী রেওয়াত’ (আহলে কিতাবদের বর্ণনা) থেকে সংগৃহীত। ইসলামের নীতি অনুযায়ী এসব বর্ণনাকে আমরা সরাসরি সত্য বলে গ্রহণ করি না, আবার মিথ্যা বলেও উড়িয়ে দেই না। কেবল এসব বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। (তাফসীরে ইবনে কাসির ১/২৯৭)

আদম (আ.) ও কাবার তাওয়াফ: একটি পর্যালোচনা

ইমাম বায়হাকী (রাহি.) তাঁর ‘দালাইলুন নবুওয়াহ’ গ্রন্থে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে—হযরত আদম ও হাওয়া (আ.) পৃথিবীতে আসার পর আল্লাহ তাআলা জিবরীল (আ.)-এর মাধ্যমে তাঁদের বায়তুল্লাহ নির্মাণের আদেশ দেন। নির্মাণ শেষে তাঁদের তাওয়াফের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, “আপনি প্রথম মানুষ এবং এটি মানুষের জন্য নির্মিত প্রথম ঘর।”

তবে আল্লামা ইবনে কাসির (রাহি.) এই হাদিসটির সনদ বিশ্লেষণ করে একে ‘যয়ীফ’ বা দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসির ২/৬৭)

 

 

হযরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর হাতে পুনঃনির্মাণ

আল্লাহ তাআলার নির্দেশে যখন কাবা শরিফ পুনঃনির্মাণের সময় এলো, তখন হযরত ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) এই মহৎ কাজে হাত দেন। তাঁর এই পবিত্র মিশনে ছায়ার মতো সাথে ছিলেন তাঁরই সুযোগ্য পুত্র হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ (আ.)। পিতা-পুত্রের এই অভূতপূর্ব শ্রম ও ত্যাগের বিবরণ ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

মাকামে ইবরাহিম: এক জীবন্ত মুজিজা

নির্মাণ কাজ চলাকালে হযরত ইসমাইল (আ.) পাথর সংগ্রহ করে এনে দিতেন এবং হযরত ইবরাহিম (আ.) দেয়াল গাঁথতেন। যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল এবং সাধারণ উচ্চতায় দাঁড়িয়ে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ল, তখন একটি বিশেষ পাথর আনা হলো—যাকে আমরা ‘মাকামে ইবরাহিম’ হিসেবে জানি। হযরত ইবরাহিম (আ.) এই পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ কাজ করতেন। অলৌকিকভাবে, দেয়াল যতই উপরে উঠছিল, পাথরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইবরাহিম (আ.)-কে নিয়ে উপরে উঠে যেত।

কবুলিয়াতের সেই কালজয়ী দোয়া

নির্মাণ কাজ শেষ করে এই মহান পিতা ও পুত্র আত্মতৃপ্তিতে ভোগেননি, বরং আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে আমলটি কবুল করার জন্য ফরিয়াদ জানিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনে সেই দৃশ্যটি এভাবে অঙ্কিত হয়েছে:

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ…

“স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল বায়তুল্লাহর ভিত্তি উঁচু করছিল এবং বলছিল—হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এই সেবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।” (সূরা বাকারা: ১২৭-১৩০)

তাঁরা কেবল কাজ কবুল করার দোয়াই করেননি, বরং অনাগত প্রজন্মের হেদায়েত এবং এমন একজন রাসুলের জন্য দোয়া করেছিলেন, যিনি মানবজাতিকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিয়ে পরিশুদ্ধ করবেন। যার ফলশ্রুতিতে পৃথিবীতে শুভাগমন ঘটেছিল আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর।

ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বায়তুল্লাহর সংস্কার

ইবরাহিম (আ.)-এর পরবর্তী যুগেও কাবা ঘর কয়েকবার সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে:

দ্বিতীয়বার: আমালিকা সম্প্রদায় কর্তৃক।

তৃতীয়বার: জুরহুম সম্প্রদায় কর্তৃক।

চতুর্থবার পুনঃনির্মাণ ও আল-আমিন (সা.)-এর ভূমিকা

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পাঁচ বছর আগে কুরাইশরা সম্মিলিতভাবে কাবা পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেয়। যুবক মুহাম্মাদ (সা.) নিজেও এই নির্মাণ কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু নির্মাণ শেষে ‘হজরে আসওয়াদ’ (কালো পাথর) স্থাপন নিয়ে গোত্রগুলোর মধ্যে চরম বিবাদ সৃষ্টি হয়। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের উপক্রম হলে আবু উমাইয়া ইবনে মুগিরা একটি চমৎকার সমাধান দেন। তিনি বলেন, “আগামীকাল ভোরে যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম হারামের দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, তার ফয়সালাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।”

পরদিন ভোরে দেখা গেল, সবার আগে প্রবেশ করছেন যুবক মুহাম্মাদ (সা.)। তাঁকে দেখেই কুরাইশরা আনন্দে চিৎকার করে উঠল:

هَذَا الْأَمِينُ رَضِينَا، هَذَا مُحَمَّدٌ

“এই তো আমাদের বিশ্বাসভাজন (আল-আমিন), আমরা তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট; এই তো মুহাম্মাদ!”

রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে নিজের চাদর বিছিয়ে তাতে পাথরটি রাখলেন এবং প্রতিটি গোত্রের নেতাকে চাদরের কোণ ধরতে বললেন। এতে করে সবার সম্মান রক্ষা হলো। এরপর তিনি নিজ হাতে পাথরটি যথাস্থানে স্থাপন করলেন। (সীরাতে ইবনে হিশাম ১/৬৫, তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৩১২)

 

কুরাইশদের পুনঃনির্মাণ: কাবাগৃহে আনীত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত পূর্বকালে কুরাইশরা যখন কাবা ঘর সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা একটি ঐতিহাসিক ও প্রশংসনীয় অঙ্গীকার করেছিল। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে—আল্লাহর ঘর নির্মাণে কোনো প্রকার হারাম বা অবৈধ উপার্জন (সুদ, ঘুষ কিংবা জবরদখল করা অর্থ) ব্যয় করা হবে না।

কিন্তু হালাল অর্থের পরিমাণ কম হওয়ায় তারা সম্পূর্ণ কাঠামোটি ইবরাহিম (আ.)-এর আদি ভিত্তির ওপর নির্মাণ করতে পারেনি। ফলে অর্থের অভাবে কাবার মূল নকশায় তারা বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়:

১. হাতীমে কাবা: মূল ঘর থেকে বিচ্ছেদ

কুরাইশরা উত্তর দিক থেকে কাবার প্রায় তিন মিটার (প্রায় ৭ হাত) জায়গা মূল গৃহের বাইরে রেখে দেয়। বর্তমানে কাবার পাশে যে অর্ধবৃত্তাকার দেয়াল ঘেরা অংশটি আমরা দেখি, তাকেই ‘হাতীমে কাবা’ বলা হয়। এটি মূলত কাবারই অংশ, যা অর্থাভাবে কুরাইশরা ছাদের নিচে আনতে পারেনি।

২. প্রবেশদ্বার ও প্রস্থান পথের পরিবর্তন

ইবরাহিম (আ.)-এর নির্মিত কাবায় দুটি দরজা ছিল—একটি প্রবেশের জন্য (পূর্ব দিকে) এবং অন্যটি বের হওয়ার জন্য (পশ্চিম দিকে)। কুরাইশরা পশ্চিম দিকের দরজাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় এবং কেবল পূর্ব দিকের দরজাটি বহাল রাখে।

৩. দরজার উচ্চতা বৃদ্ধি

আগে কাবার দরজা ছিল ভূমি সমান বা মাটির সমতলে। কিন্তু কুরাইশরা দরজাটি মাটি থেকে বেশ উপরে স্থাপন করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যাতে তারা যাকে চাইবে কেবল তাকেই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য প্রবেশাধিকার সীমিত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল।

৪. ছাদ নির্মাণ ও মিযাবে রহমত

কুরাইশদের এই নির্মাণের আগে কাবা ঘরের ওপর কোনো ছাদ ছিল না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে একবার কাবার ভেতর থেকে মূল্যবান কিছু সম্পদ চুরি হয়ে গিয়েছিল। তাই তারা কাবার উচ্চতা বৃদ্ধি করে ওপরের অংশে ছাদ নির্মাণ করে। ছাদের পানি নিষ্কাশনের জন্য তারা একটি নালা বা পারনালি স্থাপন করে, যা ইতিহাসে ‘মিযাবে রহমত’ নামে সমধিক পরিচিত। (তথ্যসূত্র: মক্কাতুল মুকাররামা ওয়া তারিখু মাসজিদুন নববী ৪১)

কাবার আদি রূপে ফেরার আকাঙ্ক্ষা ও রাসূল (সা.)-এর প্রজ্ঞা

রাসূলুল্লাহ (সা.) মনেপ্রাণে চাইতেন কাবা গৃহকে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর সেই আদি ও পূর্ণাঙ্গ কাঠামোতে ফিরিয়ে নিতে। এ বিষয়ে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাযি.)-এর সাথে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন:

«أَلَمْ تَرَيْ أَنَّ قَوْمَكِ لَمَّا بَنَوْا الكَعْبَةَ اقْتَصَرُوا عَنْ قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيمَ؟»

“তুমি কি জানো না, তোমার কওম যখন কাবাঘর নির্মাণ করেছে, তখন তারা ইবরাহিমের ভিত্তি থেকে একে ছোট করে ফেলেছে?”

তখন হযরত আয়েশা (রাযি.) প্রশ্ন করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে ইবরাহিম (আ.)-এর আদি ভিত্তির ওপর পুনরায় ফিরিয়ে দেবেন না?” রাসূলুল্লাহ (সা.) এক প্রজ্ঞাপূর্ণ উত্তর দিলেন:

«لَوْلَا حِدْثَانُ قَوْمِكِ بِالكُفْرِ لَفَعَلْتُ»

“তোমার সম্প্রদায় যদি নতুন মুসলমান না হতো (অর্থাৎ কাবার কাঠামো ভাঙলে তাদের মনে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা না থাকতো), তবে আমি অবশ্যই তা করতাম।” (সহিহ বুখারি: ১৫৮৩)

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, বৃহত্তর শান্তি ও জনমতের শ্রদ্ধাবোধের খাতিরে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কাবার কাঠামোতে হাত দেননি।

ইসলামি যুগে বায়তুল্লাহর সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ

ইসলামের বিজয়ের পর পবিত্র কাবা গৃহের ইতিহাস এক নতুন বাঁক নেয়। জাহেলি যুগে কুরাইশরা কাবার কাঠামোতে যে পরিবর্তন এনেছিল, ইসলামি শাসনকালে দুইবার বড় ধরনের সংস্কারের মাধ্যমে তা ভিন্ন রূপ লাভ করে।

১. আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের (রাযি.)-এর ঐতিহাসিক উদ্যোগ

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাযি.)-এর ভাগ্নে এবং প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের (রাযি.) যখন খেলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন, তখন তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই অপূর্ণ মনোবাসনা পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি হযরত আয়েশা (রাযি.)-এর কাছ থেকে শুনেছিলেন যে, রাসুল (সা.) কাবাকে ইবরাহিম (আ.)-এর আদি কাঠামোতে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।

ইবনে যোবায়ের (রাযি.)-এর আনীত পরিবর্তনসমূহ:

  • তিনি ‘হাতীমে কাবা’-কে পুনরায় মূল গৃহের অন্তর্ভুক্ত করেন।
  • কুরাইশদের বন্ধ করে দেওয়া পশ্চিম দিকের দরজাটি পুনরায় উন্মুক্ত করেন।
  • উঁচু করে রাখা দরজাটি মাটির সমতলে নামিয়ে আনেন যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রবেশ করতে পারে।
  • তিনি কাবার উচ্চতা পূর্বের তুলনায় আরও ১০ হাত বৃদ্ধি করেন।

২. হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পুনঃনির্মাণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

পরবর্তীতে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে ইবনে যোবায়ের (রাযি.)-এর নির্মিত কাঠামোটি ভেঙে ফেলেন। তিনি কাবাকে পুনরায় সেই কুরাইশ বা জাহেলি যুগের আদলে ফিরিয়ে নিয়ে যান। অর্থাৎ, হাতীমের অংশটি আবার কাবার বাইরে বের করে দেওয়া হয় এবং পশ্চিমের দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের (রাযি.)-এর একটি পরিবর্তন বহাল রেখেছিলেন—তা হলো কাবার বর্ধিত উচ্চতা। খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের পরামর্শে উচ্চতার এই বিষয়টি অপরিবর্তিত রাখা হয়।

ইমাম মালিক (রাহি.)-এর দূরদর্শী ফতোয়া ও বর্তমান রূপ

পরবর্তীকালে আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ আবারও চাইলেন কাবা গৃহকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই কাঙ্ক্ষিত আদি রূপে (ইবরাহিম আ.-এর ভিত্তি অনুযায়ী) পুনর্নির্মাণ করতে। কিন্তু তৎকালীন সময়ের শ্রেষ্ঠ ইমাম ও ফকীহ ইমাম মালিক (রাহি.) এই সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করেন। তিনি এক ঐতিহাসিক ফতোয়া প্রদান করে খলিফাকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، لَا تَجْعَلْ كَعْبَةَ اللهِ مَلْعَبَةً لِلْمُلُوكِ لَا يَشَاءُ أَحَدٌ أَنْ يَهْدِمَهَا إِلَّا هَدَمَهَا

“হে আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহর এই পবিত্র ঘরকে আপনি বাদশাহদের খেলনার বস্তুতে পরিণত করবেন না। অন্যথায় দেখা যাবে—ভবিষ্যতের প্রত্যেক বাদশাহ নিজ নিজ খ্যাতি অর্জনের নেশায় বায়তুল্লাহকে বারবার ভাঙবে এবং নতুনভাবে সংস্কার করতে চাইবে। এতে কাবার পবিত্রতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে।” (তাফসীরে ইবনে কাসির ১/৩১৪)

ইমাম মালিক (রাহি.)-এর এই প্রজ্ঞাপূর্ণ ও দূরদর্শী ফতোয়া বাদশা হারুনুর রশিদ শিরোধার্য করে নেন এবং নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। সেই থেকে আজ অবধি পবিত্র বায়তুল্লাহ হাজ্জাজ বিন ইউসুফের দেওয়া সেই কাঠামোতেই বিদ্যমান রয়েছে। যদিও এরপর বিভিন্ন সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ছোটখাটো মেরামত করা হয়েছে, কিন্তু কাবার মূল নকশাটি একই রাখা হয়েছে।

চলবে……

পরের অংশে পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

১. প্রশ্ন: পৃথিবীতে মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্মিত প্রথম ঘর কোনটি?

উত্তর: মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্মিত পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর হলো পবিত্র কাবা শরীফ (বায়তুল্লাহ), যা মক্কা নগরীতে অবস্থিত। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ৯৬ নম্বর আয়াতে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে।

২. প্রশ্ন: পবিত্র কাবা শরীফ ইতিহাসে মোট কতবার পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে?

উত্তর: নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক বর্ণনা ও তাফসীর অনুযায়ী, কাবা শরীফ প্রধানত চারবার বড় ধরনের সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের মধ্য দিয়ে গেছে। হযরত আদম (আ.), হযরত ইব্রাহিম (আ.), নবুয়ত পূর্ববর্তী সময়ে কুরাইশ বংশ এবং পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের (রাযি.) ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আমলে এর বড় পরিবর্তন ও সংস্কার হয়েছে।

৩. প্রশ্ন: ‘হাতীমে কাবা’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: হাতীম বা হিজরে ইসমাইল হলো কাবার উত্তর দিকে অর্ধবৃত্তাকার দেয়াল ঘেরা অংশ। কুরাইশরা যখন হালাল অর্থের অভাবে কাবার মূল কাঠামো ছোট করে ফেলেছিল, তখন তিন মিটার জায়গা মূল ঘরের বাইরে রয়ে যায়। এই অংশটি মূলত কাবা শরীফ-এরই অংশ, যা বর্তমানে ছাদের বাইরে অবস্থিত।

৪. প্রশ্ন: মাকামে ইবরাহিম কী এবং এর বিশেষত্ব কী?

উত্তর: মাকামে ইবরাহিম হলো একটি জান্নাতি পাথর, যার ওপর দাঁড়িয়ে হযরত ইবরাহিম (আ.) কাবা ঘর নির্মাণ করেছিলেন। দেয়াল উঁচু হওয়ার সাথে সাথে এই পাথরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইবরাহিম (আ.)-কে নিয়ে উপরে উঠে যেত এবং এতে তাঁর পায়ের ছাপ অলৌকিকভাবে গেঁথে আছে।

৫. প্রশ্ন: রাসূলুল্লাহ (সা.) কেন কাবার বর্তমান কাঠামোটি পরিবর্তন করেননি?

উত্তর: রাসূলুল্লাহ (সা.) চাইলেন কাবাকে ইবরাহিম (আ.)-এর আদি ভিত্তিতে ফিরিয়ে নিতে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে কুরাইশরা সবেমাত্র ইসলাম গ্রহণ করেছিল। কাবার কাঠামো ভাঙলে নবদীক্ষিত মুসলমানদের মনে বড় ধরণের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে—এই ফিতনা এড়ানোর জন্য তিনি তা পরিবর্তন করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here