ভূমিকা: হৃদয়ে জ্ঞানের অমলিন আভা

সৃষ্টির অনাদিকাল থেকে মানুষের উৎকর্ষের মূল মাপকাঠি হলো ‘জ্ঞান’। এটি কেবল তথ্যের কোনো সমষ্টি নয়, বরং আত্মার অন্ধকার দূরকারী এক অবিনাশী জ্যোতি। অজানাকে জানার চিরন্তন পিপাসা আর সত্যের সন্ধানে অচেনা পথ পাড়ি দেওয়ার যে দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা মানুষের হৃদয়ে সুপ্ত থাকে, তাকেই আমরা ‘ইলম’ বা জ্ঞান বলে অভিহিত করি। মহান রবের পক্ষ থেকে এটি এক শ্রেষ্ঠ আমানত, যা মানুষকে দান করেছে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীবের মুকুট।

পবিত্র কুরআনের প্রথম বাণীই ছিল ‘ইকরা’ বা পড়ো— যা প্রমাণ করে ইসলামে জ্ঞান অর্জন কেবল প্রয়োজন নয়, বরং এটি আত্মিক মুক্তির অপরিহার্য সোপান। বর্তমান বস্তুবাদী ও বিভ্রান্তিকর আদর্শের ভিড়ে পথহারা মুসলিম উম্মাহর জন্য দ্বীনী ইলমই হলো একমাত্র ধ্রুবতারা। তবে এই ইলম বা জ্ঞানের পথে সফল হতে হলে প্রয়োজন হৃদয়ের বিশুদ্ধতা ও ইখলাস। এই নিবন্ধে আমরা জ্ঞানের গুরুত্ব, এর আধ্যাত্মিক মর্যাদা এবং একজন জ্ঞান অন্বেষণকারীর অপরিহার্য গুণাবলী নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

জ্ঞানের আলোকচ্ছটা: সত্য ও সুন্দরের অবিনাশী পাথেয়

জ্ঞান মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ ভূষণ এবং এক অমূল্য সম্পদ। এটি কেবল মস্তিষ্কজাত কোনো তথ্য নয়, বরং অতৃপ্ত আত্মার প্রশান্তির এক পরম সুধা। অজানার রহস্যভেদ করা, অচেনা দিগন্তকে চেনা এবং নতুনের জগতে অবগাহন করার মাঝেই নিহিত রয়েছে জ্ঞানের সার্থকতা। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান এক বিশেষ আমানত। এই আলোকবর্তিকার মাধ্যমেই তিনি অগণিত মানুষকে পথভ্রষ্টতার নিশ্ছিদ্র অন্ধকার থেকে উদ্ধার করে সত্য ও ন্যায়ের আলোকিত রাজপথে আসীন করেছেন। ‘আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ’-এর মতোই এই জ্ঞানভাণ্ডার মানুষকে দান করেছে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীবের অনন্য মর্যাদা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং তাঁর প্রিয় নবী (সা.)-কে জ্ঞানের বারিধারায় সিক্ত করে সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ ۚ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا

“এবং তিনি আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না। বস্তুত আপনার ওপর আল্লাহর অসীম করুণা রয়েছে।” (সূরা নিসা, ৪:১১৩)

পার্থিব জগতের কোনো প্রাচুর্য নয়, বরং মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে কেবল জ্ঞান বৃদ্ধির প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ থেকেই অনুমেয় যে, রবের নিকট জ্ঞানের মূল্য কতখানি। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا

“এবং আপনি বলুন— হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।” (সূরা ত্বোয়াহা, ২০:১১৪)

জ্ঞানীদের সম্মান ও মর্যাদা কেবল পরকালেই নয়, বরং ইহকালেও আল্লাহ সমুন্নত করেছেন। জ্ঞান ও ঈমানের পবিত্র সমন্বয়েই মানুষ শ্রেষ্ঠত্বের সোপানে আরোহণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ

“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদাকে সুউচ্চ করবেন।” (সূরা মুজাদালাহ, ৫৮:১১)

প্রকৃত জ্ঞান মানুষকে স্রষ্টাভীতি এবং বিনয় শেখায়। আত্মার গহীনে প্রভুর মহিমা কেবল তারাই অনুভব করতে পারেন, যাদের অন্তর জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত। এ প্রসঙ্গে মহান রবের ঘোষণা:

إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ

“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করে।” (সূরা ফাতির, ৩৫:২৮)

জ্ঞানের এই সাক্ষ্য এতই শক্তিশালী যে, মহান আল্লাহ নিজের একত্ববাদের সাক্ষ্যের সাথে ফেরেশতাকুল ও ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীদের সাক্ষ্যকে একত্রে উল্লেখ করেছেন:

شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ

“আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। ফেরেশতামণ্ডলী এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও এই সাক্ষ্য দিয়েছেন।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৮)

ইসলামের দৃষ্টিতে সত্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগ্রাম হলো বুদ্ধিবৃত্তিক ও দালীলিক লড়াই। নবীগণের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে আলেম ও জ্ঞানী সমাজ লেখনী এবং অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে মিথ্যার মূলোৎপাটন করেন। একেই বলা হয়েছে ‘জিহাদে কবির’ বা মহা-সংগ্রাম। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:

فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَجَاهِدْهُمْ بِهِ جِهَادًا كَبِيرًا

“অতএব আপনি কাফেরদের আনুগত্য করবেন না এবং আপনি কুরআনের সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম (জিহাদ) চালিয়ে যান।” (সূরা ফুরক্বান, ২৫:৫২)

 

বিখ্যাত মনীষী আল্লামা ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রহ.)-এর মতে, কুরআনের অকাট্য দালীলিক প্রমাণ দিয়ে মিথ্যার মোকাবিলা করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ জিহাদ। বিশেষ করে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ তারা বাহ্যিকভাবে ইসলামের লেবাস ধারণ করলেও অন্তরে শত্রুর বিষ লালন করে। এই অদৃশ্য শত্রুর চক্রান্ত নস্যাৎ করতে জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন:

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ ۚ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

“হে নবী! আপনি কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। তাদের ঠিকানা হলো জাহান্নাম, আর তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।” (সূরা তাওবা, ৯:৭৩)

এখানে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ মানেই হলো কুরআনের জ্ঞানভিত্তিক যুক্তি দিয়ে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা। সুতরাং দ্বীনী ইলম অর্জন করা কেবল ব্যক্তিগত উৎকর্ষ নয়, বরং এটি একটি মহান তামাদ্দুনিক সংগ্রাম।

 

পার্থিব সব প্রাপ্তি মৃত্যুর সাথে সাথে বিলীন হয়ে গেলেও জ্ঞানের আলো কখনো নিভে যায় না। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই অমিয় বাণী আমাদের সেই পথই দেখায়:

إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ, أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

“মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমলের সমস্ত দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়; তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত— সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা থেকে মানুষ উপকৃত হয় এবং এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” (সহীহ মুসলিম)

 

একজন জ্ঞান অন্বেষণকারী বা ‘তালেবে ইলম’-এর জন্য এর চেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে যে, তারা স্বয়ং নবীগণের উত্তরাধিকারী! আম্বিয়ায়ে কেরাম কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি, বরং তারা রেখে গেছেন ইলম বা জ্ঞান। যারা এই অমূল্য রত্ন ধারণ করবে, তারাই লাভ করবে শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণ অংশ। আর এই পথই হলো জান্নাতে পৌঁছানোর রাজপথ:

مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ

“যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথে চলে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেন।” (সহীহ মুসলিম)

 

আজকের পৃথিবীতে যখন নানা মতবাদ ও ফিতনার ঘনঘটা, তখন অন্ধকার ভেদ করার একমাত্র অস্ত্র হলো ‘ইলমুশ শারঈ’ বা শরীআতের জ্ঞান। মুসলিম জাতি আজ যে বিভ্রান্তির আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে, তার মূলে রয়েছে জাহেলিয়াতের প্রগাঢ় অমানিশা। বিজাতীয় আদর্শের ফাঁদ থেকে উম্মাহকে বাঁচাতে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ করতে কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এখন সময়ের দাবি।

জ্ঞানের এই সুদীর্ঘ পথে সফল হতে হলে একজন শিক্ষার্থীর অন্তরে কিছু বিশেষ গুণ থাকা অত্যাবশ্যক। নচেৎ এই মহৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে:

১. অন্তরের পবিত্রতা: জ্ঞান অন্বেষণকারীকে অবশ্যই তার হৃদয় থেকে ঘৃণা, অহংকার, রিয়া (লৌকিকতা) এবং যাবতীয় কলুষতা দূর করতে হবে। ইলম হলো এক প্রকার ‘গোপন সালাত’ বা হৃদয়ের ইবাদত। অপবিত্র জমিতে যেমন ফসল ফলে না, তেমনি কলুষিত হৃদয়ে জ্ঞানের নূর প্রবেশ করে না। সাহল ইবনু আব্দুল্লাহ (রহ.) যথার্থই বলেছেন— “সেই হৃদয়ে আল্লাহর নূর প্রবেশ করতে পারে না, যেখানে আল্লাহর অপছন্দনীয় বিষয়সমূহ বিদ্যমান থাকে।”

২. ইখলাস বা নিষ্ঠা: ইলম অর্জনের একমাত্র লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি (ইখলাস লিল্লাহ)। স্রেফ দুনিয়াবি সম্মান বা তর্কের খাতিরে নয়, বরং শরীআতের পুনর্জাগরণ, নিজের আত্মাকে আলোকিত করা এবং কিয়ামতের কঠিন দিনে রবের নৈকট্য অর্জনই হবে তালেবে ইলমের মূল অভীষ্ট।

 

ইলম অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় সংগ্রাম হলো নিজের নফস বা অন্তরের সাথে। প্রখ্যাত তাবেঈ সুফিয়ান ছাওরী (রহ.) হৃদয়ের অস্থিরতা সম্পর্কে এক চিরন্তন সত্য উচ্চারণ করেছেন:

“আমার অন্তর জগতের চিকিৎসার চেয়ে কঠিন কাজ আমার নিকট আর নেই; কারণ অন্তর সর্বদা পরিবর্তনশীল।”

জ্ঞানের পথে বিচরণকারীর জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদ হলো অহংকার, অনর্থক তর্ক-বিতর্ক, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা এবং দ্বীনী ইলমকে দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার বানানো। রাসূলুল্লাহ (সা.) সেই ব্যক্তির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, যাকে কিয়ামতের ময়দানে সর্বপ্রথম বিচারের সম্মুখীন করা হবে। সে হলো সেই আলেম, যে কেবল মানুষের প্রশংসা ও সম্মান কুড়ানোর জন্য ইলম অর্জন করেছিল। (সহীহ মুসলিম)।

পক্ষান্তরে, মহান আল্লাহ যে জ্ঞান অন্বেষণকারীর কল্যাণ চান, প্রথমেই তার অন্তরকে ‘খশিয়াত’ বা আল্লাহভীতি দিয়ে কোমল করে দেন। ফলে তার প্রতিটি পদক্ষেপে ‘খুলুছিয়াত’ বা বিশুদ্ধতা ফুটে ওঠে। সালাফে সালেহীনগণ বলতেন:

“আমার ইবাদত হলো আল্লাহ ও আমার মাঝের ভালোবাসার এক নিভৃত সেতুবন্ধন, যা অন্য কোনো চক্ষু অবলোকন করতে পারে না।”

 

ইলম যদি নিয়তের শুদ্ধতা হারায়, তবে তা জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নামের পথ প্রশস্ত করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন:

مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ

“যে ব্যক্তি আলেমদের সাথে বিতর্ক করা, মূর্খদের সাথে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হওয়া কিংবা মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।” (সুনানে তিরমিযী, ২৬৫৪)

দুনিয়াবী স্বার্থের মোহে যারা পবিত্র ইলমকে কলুষিত করে, তাদের জন্য জান্নাতের সুঘ্রাণও হারাম হয়ে যায়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

“যে ইলম দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা আবশ্যক, কেউ যদি তা কেবল দুনিয়াবী স্বার্থ লাভের জন্য শিক্ষা করে, তবে সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না।” (সুনানে আবু দাউদ, ৩৬৬৬)

আমাদের আরো আর্টিকেল পড়ুন

দ্বীনদার হওয়ার পথে প্রধান ৫টি বাঁধা ও উত্তরণের উপায় | নূরানী পথ

উপসংহার: হৃদয়ের জ্যোতি ও নাজাতের পাথেয়

পরিশেষে বলা যায়, জ্ঞান কেবল অক্ষরজ্ঞান বা জাগতিক কোনো অলঙ্কার নয়; বরং এটি হলো স্রষ্টার পক্ষ থেকে বান্দার হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত এক স্বর্গীয় নূর। যে ইলম মানুষকে বিনয়ী করে না, পরকালের পাথেয় হয় না কিংবা স্রষ্টার সান্নিধ্য এনে দেয় না— তা প্রকৃত জ্ঞান নয়, বরং আত্মার জন্য এক দুঃসহ বোঝা। একজন প্রকৃত জ্ঞান অন্বেষণকারী বা ‘তালেবে ইলম’-এর সার্থকতা তখনই, যখন তার অর্জিত জ্ঞান আমলের মাধ্যমে বিকশিত হয় এবং তার চরিত্রকে করে তোলে কলুষমুক্ত ও উজ্জ্বল।

বর্তমান ফিতনা সংকুল পৃথিবীতে দ্বীনী ইলমই হলো মুমিনের ঢাল। তবে এই পথে টিকে থাকার প্রধান শর্ত হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা বা ইখলাস। অহংকার, লোকদেখানো মানসিকতা এবং দুনিয়াবি লালসার ঊর্ধ্বে উঠে যারা কেবল মহান রবের সন্তুষ্টির জন্য ইলমের সাধনা করেন, তারাই মূলত নবীদের প্রকৃত উত্তরাধিকারী। তাঁদের জন্যই আসমান ও জমিনের প্রতিটি সৃষ্টি দোয়া করে এবং তাঁদের পদতলে ফেরেশতারা সম্মানের ডানা বিছিয়ে দেয়।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক ও উপকারী জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমাদের অন্তরকে রিয়া ও নিফাক থেকে মুক্ত করে আমলযোগ্য ইলমের নূর দ্বারা আলোকিত করুন। আমীন।

আরো পড়ুন

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি: আধুনিক যুগের সমাধান

পাদটীকা ও তথ্যসূত্র:

আল্লামা ইবনুল ক্বাইয়্যিম, মিফতাহু দারুস সা‘দাহ, খণ্ড ১, পৃ. ৭০।

সহীহ মুসলিম, হা/৪৩১০।

সুনানে তিরমিযী, হা/২৮৫৮।

সহীহ মুসলিম, হা/১৯০৫ (২/১৩১৫)।

সুনানে তিরমিযী, হা/২৬৫৪।

সুনানে আবু দাউদ, হা/৩৬৬৬।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here